রবিবার, 4 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

‘ইস্যু ক্যাপচারের’ রাজনীতি: তারেক রহমানের কৌশলে জামায়াতের রাজনীতি সংকুচিত হচ্ছে?

রাজনীতিতে এটাকে বলা হয় “issue capture”—অর্থাৎ প্রতিপক্ষ যে ইস্যু দিয়ে রাজনীতি করে, সেটাকে নিজের রাজনৈতিক এজেন্ডার ভেতরে নিয়ে আসা। তখন প্রতিপক্ষের আলাদা করে দাঁড়ানোর জায়গা কিছুটা সংকুচিত হয়ে যায়।

‘ইস্যু ক্যাপচারের’ রাজনীতি: তারেক রহমানের কৌশলে জামায়াতের রাজনীতি সংকুচিত হচ্ছে?

বাংলাদেশ সরকারের দায়িত্ব গ্রহণে পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেশ পরিচালনার কৌশল নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা হচ্ছে। বিশেষ করে তাঁর নির্বাচনী ক্যাম্পেইনের হট টপিক 'ফ্যামিলি কার্ড'—এর বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন, যাকাত ব্যবস্থাপনা কমিটি প্রনয়ন এবং সাধারণ মানুষের সাথে সরাসরি সংযোগ; এক কথায় একজন স্টেটম্যান হওয়ার পর তারেক রহমানের এসব নীতি- কৌশলের আলোচনা সামনে আসার ফলে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠেছে: এসব নীতি-কৌশল জামায়াতের রাজনীতিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে?

বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশে একটি বড় ধর্মীয় ও কনজার্ভেটিভ ভোটার শ্রেণি আছে। দীর্ঘদিন ধরে এই ভোটের একটি অংশ জামায়াতে ইসলামী দ্বারা প্রভাবিত এবং অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত। কারণ তারা ধর্মীয় ভাষ্য, সামাজিক সংগঠন এবং মসজিদভিত্তিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে একটি আলাদা রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি করেছে।

কিন্তু বিএনপি বা তারেক রহমানের নেতৃত্বে রাজনীতি যদি এমন দিকে যায়, যেখানে দরিদ্র মানুষের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, সংগঠিত যাকাত ব্যবস্থাপনা, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানি প্রদানের নিশ্চয়তা এবং নৈতিক ও সামাজিক কল্যাণভিত্তিক কর্মসূচির স্থায়ী প্রাধান্য থাকবে, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই জামায়াতের ঐতিহ্যগত কিছু রাজনৈতিক ইস্যু বিএনপির ভেতরেই শোষিত হয়ে যেতে পারে।

রাজনীতিতে এটাকে বলা হয় “issue capture”—অর্থাৎ প্রতিপক্ষ যে ইস্যু দিয়ে রাজনীতি করে, সেটাকে নিজের রাজনৈতিক এজেন্ডার ভেতরে নিয়ে আসা। তখন প্রতিপক্ষের আলাদা করে দাঁড়ানোর জায়গা কিছুটা সংকুচিত হয়ে যায়।

তবে এটাও সত্য যে জামায়াতে ইসলামী শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক দল না, তাদের গ্রাসরুট সংগঠন এবং আদর্শভিত্তিক নেটওয়ার্ক অনেক শক্তিশালী। ছাত্র সংগঠন, যুব সংগঠন, সামাজিক সংগঠন—এই কাঠামো তাদের দীর্ঘদিন ধরে টিকিয়ে রেখেছে। তাই শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্ট্র‍্যাটেজি বা কৌশল পরিবর্তনের কারণে জামায়াত পুরোপুরি প্রভাব হারাবে—এটা বলা যায়না।

কিন্তু তারেক রহমানের এই ধরনের কল্যাণমুখী, জবাবদিহিতামূলক এবং জনগণের সাথে সরাসরি সংযোগভিত্তিক রাজনীতি যদি ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি নতুন বাস্তবতা তৈরি হতে পারে—যেখানে বড় রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে বিএনপি অনেক ইস্যু নিজের ভেতরে নিয়ে নেবে এবং বিরোধী দলগুলোর রাজনৈতিক স্পেস কিছুটা সংকুচিত হবে।

সবশেষে একটা কথা বলা যায়—বাংলাদেশের রাজনীতি সবসময় পরিবর্তনশীল হলেও রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু যদি হয় জনকল্যাণ, জবাবদিহিতা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার, তাহলে সেটাই শেষ পর্যন্ত দেশের রাজনীতিকে একটি নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে। সময়ই বলে দেবে—এই পরিবর্তন এবং কৌশলগুলো রাজনীতিতে কেমন প্রভাব ফেলবে।

লেখক: মুহাম্মদ আবু তালহা

রাজনৈতিক কর্মী