জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের প্রয়াণে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (১২ জুলাই) রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৯৪ বছর বয়সে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন প্রবীণ এই নেতা।
এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভাষা আন্দোলনের অন্যতম সৈনিক, সাবেক ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে দেশ একজন অভিভাবককে হারাল। মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত প্রার্থনা করেন তিনি।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক অনন্য, সৎ ও দূরদর্শী ব্যক্তিত্ব ছিলেন ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার। দীর্ঘ কর্মময় জীবনে তিনি দক্ষতার সাথে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও স্পিকারের মতো রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক দায়িত্ব সামলেছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন মেয়াদে তিনি শিক্ষা, ভূমি, পররাষ্ট্র এবং গণপূর্ত ও নগর উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে রাষ্ট্র পরিচালনায় অবদান রেখেছেন।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বার্তায় উল্লেখ করেন, দেশের সংসদীয় গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা এবং জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনে মরহুমের অবদান দেশবাসী চিরকাল শ্রদ্ধার সাথে মনে রাখবে। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় চরম প্রতিকূলতা ও নিপীড়নের মুখেও তিনি বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ এবং মুক্তিকামী মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে অবিচল ছিলেন। কোনো ধরনের লোভ বা ভয়ের কাছে মাথা নত না করে আদর্শিক জায়গায় তিনি ছিলেন আপসহীন।
বিশেষ করে বিগত প্রায় দুই দশকের স্বৈরাচারবিরোধী গণ-আন্দোলনে তাঁর সাহসী ভূমিকা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞা দল এবং দেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। জনগণের ভোটাধিকার ও মৌলিক অধিকার আদায়ের সংগ্রামে তাঁর এই অবদান আগামী প্রজন্মের রাজনীতিকদের জন্য এক পরম অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মরহুমের বিদেহী আত্মার চিরশান্তি ও জান্নাত কামনা করার পাশাপাশি শোকাহত পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, রাজনৈতিক সহকর্মী ও গুণগ্রাহীদের প্রতি গভীর সমবেদনা ও সহমর্মিতা জ্ঞাপন করেন।