চীনের তিব্বত অঞ্চলে পাঁচ দশমিক তিন মাত্রার একটি মাঝারি ধরনের ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। মঙ্গলবার সংঘটিত এই প্রাকৃতিক কম্পন পার্শ্ববর্তী দেশ নেপালের বেশ কিছু অঞ্চলেও সুস্পষ্টভাবে অনুভূত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূকম্পন কেন্দ্র।
সংস্থাটির মতে, ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার গভীরে এই ভূকম্পনের উৎপত্তি হয়। তবে ভারতের ভূতাত্ত্বিক গবেষণা সংস্থা এই কম্পনের মাত্রা কিছুটা কম হিসেব করে ৫ দশমিক ০ হিসেবে উল্লেখ করেছে। আকস্মিক এই ভূকম্পনে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের ধ্বংসযজ্ঞ বা হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, এর মাত্র কয়েকদিন আগেই এই অঞ্চলে ৫ দশমিক ১ মাত্রার পৃথক একটি কম্পন ধরা পড়েছিল, যার গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০ কিলোমিটার গভীরে। ভূকম্পনের এই ধাক্কার মধ্যেই হিমালয় অঞ্চলের দুই প্রতিবেশী সীমান্ত এলাকায় সাম্প্রতিক এক বিধ্বংসী প্রাকৃতিক বিপর্যয় সামাল দিতে লড়ছে। গত আগস্টের শেষভাগে তিব্বত ও নেপালের পারস্পরিক সীমান্ত এলাকায় বিশাল হিমবাহ ধস ও আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দপ্তর জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সেই জলচ্ছ্বাসে দেশটিতে নিহতের সংখ্যা এক হাজার সাড়ে তিনশো ছাড়িয়েছে এবং এখনও ৫ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
অন্যদিকে চীনা কর্তৃপক্ষের সূত্রে জানা গেছে, তিব্বত অংশে এই দুর্যোগে বেশ কিছু মানুষের প্রাণহানির পাশাপাশি পাঁচ শতাধিক ব্যক্তি অদৃশ্যে হারিয়ে গেছেন। সীমান্ত সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় হিমবাহ গলে ধস নামায় বিস্তীর্ণ সড়ক নেটওয়ার্ক, সেতু ও বসতি সম্পূর্ণ লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। গত দুই সপ্তাহ ধরে সেখানে টানা উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎ কেন্দ্রের টানেল ও ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধারের ঘটনা ঘটে যা উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাওয়ার আশাকে বাঁচিয়ে রেখেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়ার ফলে হিমালয়ের বরফ দ্রুত গলে যাওয়াতেই এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্যোগ বারবার ফিরে আসছে।