আজ সোমবার ভোরে টাইফুনটির শক্তি কিছুটা হ্রাস পেয়ে সাধারণ ক্রান্তীয় ঝড়ে পরিণত হয়েছে। তবে এতে দুর্যোগের তীব্রতা কমেনি। বাণিজ্যনগরী সাংহাইয়ে মাত্র ২৪ ঘণ্টার অবিরাম বর্ষণে বিগত দেড় শতকের রেকর্ড ভেঙে গেছে। ইতোমধ্যে ১ হাজার ৩০০টিরও বেশি আকাশযান চলাচল বাতিল করা হয়েছে।
চীনের আবহাওয়া দপ্তর হুঁশিয়ারি দিয়েছে, আগামী কিছুদিন এই ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে, যা আরও বড় আকারের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। উত্তর ও মধ্যাঞ্চলীয় শানডং, হেনান এবং সাংহাই জুড়ে অতিভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস প্রদান করে নাগরিকদের ঘরের অভ্যন্তরে কিংবা নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, কিছু অঞ্চলে চারশত মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে, যা সার্বিক পরিস্থিতিকে আরও সংকটাপন্ন করতে পারে। সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে প্রশাসন ইতোমধ্যে ১০ লাখ অধিবাসীকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নিয়েছে।
ঝেজিয়াং প্রদেশের উপকূলীয় শহর ওয়েনঝৌর স্থানীয় প্রশাসন জানায়, তারা প্রায় নয় লাখেরও বেশি বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে এবং ১ হাজার ৫০০টিরও বেশি জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রেখেছে। পার্শ্ববর্তী ফুজিয়ান প্রদেশের ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলো থেকে প্রায় ৯৮ হাজার ৯০০ জনকে স্থানান্তর করা হয়েছে। এছাড়া গতকাল রোববার সন্ধ্যা নাগাদ সাংহাইয়ের বিপজ্জনক এলাকাগুলো থেকে আরও ২ লাখ ১৫ হাজার ৬০০ জনকে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে।
এখন পর্যন্ত দেশটিতে কোনো প্রাণহানি বা আহত হওয়ার খবর মেলেনি। তবে আবহাওয়া সংস্থা পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় থাকার পরামর্শ দিয়েছে। উদ্ধারকারী দলগুলোকে প্রস্তুত রাখার পাশাপাশি পর্যাপ্ত পরিমাণ জরুরি ত্রাণ সামগ্রী মজুত করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত স্থানান্তরিত সাধারণ মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানের নির্দেশনা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এর পূর্বে টাইফুন ডলফিনের আঘাতে জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় ওকিনাওয়া অঞ্চলে ছয়জন ব্যক্তি জখম হন এবং ৫০ হাজারের বেশি স্থাপনা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। ফিলিপাইনের মূল ভূখণ্ডে সরাসরি আঘাত না করলেও দুর্যোগটির প্রভাবে প্রবল বৃষ্টিপাত ঘটে, যার ফলে ম্যানিলার আশপাশসহ উত্তর লুজনে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। এছাড়া বাগিও শহরে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে, যেখান থেকে কয়েকজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও বেশ কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন।
জলবায়ু গবেষকদের মতে, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে শক্তিশালী টাইফুনসহ চরমভাবাপন্ন আবহাওয়া সৃষ্টির প্রবণতা নাটকীয়ভাবে বাড়ছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের অতিরিক্ত উত্তাপ এ ধরনের প্রলয়ংকরী প্রাকৃতিক দুর্যোগের শক্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।