রবিবার, 4 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

মহাকাশ স্টেশনে সবজির বাগান! ছবি শেয়ার করলেন নভোচারী সোফি

পৃথিবীর কক্ষপথে ভাসমান আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে রীতিমতো তাজা সবজির বাগান গড়ে তুলেছেন বিজ্ঞানীরা। সম্প্রতি মহাকাশের সেই খুদে ও উজ্জ্বল বাগানের একটি চমৎকার আলোকচিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে বিশ্ববাসীকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন নভোচারী সোফি অ্যাডেনট।

মহাকাশ স্টেশনে সবজির বাগান! ছবি শেয়ার করলেন নভোচারী সোফি
ছবি : সংগৃহীত

পৃথিবীর কক্ষপথে ভাসমান আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে রীতিমতো তাজা সবজির বাগান গড়ে তুলেছেন বিজ্ঞানীরা।

সম্প্রতি মহাকাশের সেই খুদে ও উজ্জ্বল বাগানের একটি চমৎকার আলোকচিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে বিশ্ববাসীকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন নভোচারী সোফি অ্যাডেনট।

তিনি উল্লেখ করেন, মহাকাশ স্টেশনের কলম্বাস মডিউলে সম্প্রতি যে অদ্ভুত গোলাপি আভার দেখা মিলেছে, তা মূলত ‘ভেজি’ নামের একটি বিশেষ প্রকোষ্ঠ থেকে নিঃসৃত হচ্ছে। এটি হলো মহাকাশ স্টেশনে বৈজ্ঞানিক উপায়ে সবজি চাষের একটি আধুনিক ল্যাবরেটরি, যা নভোচারীদের কাছে একটি ছোট্ট বাগান। মূলত কৃত্রিম পরিবেশে উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় সঠিক আলোর জোগান দিতেই এই প্রকোষ্ঠ থেকে এমন আকর্ষণীয় গোলাপি আলো ছড়ায়।

মহাকাশ স্টেশনের চলমান ৭৪তম অভিযানের অংশ হিসেবে এই ভেজি প্রকোষ্ঠে ‘ভেজ-০৬’ নামের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা চালানো হয়। নভোচারী সোফি জানান, এই গবেষণার পেছনে দুটি প্রধান উদ্দেশ্য ছিল। প্রথমত, মহাশূন্যের ভরশূন্য পরিবেশে আলফালফা উদ্ভিদ ও উপকারী ব্যাকটেরিয়া কীভাবে চারপাশের বাতাস থেকে নাইট্রোজেন গ্রহণ করে নিজেদের পুষ্টি তৈরি করে তা পর্যবেক্ষণ করা। দ্বিতীয়ত, গাছকে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে সাহায্যকারী প্রধান উপাদান ‘লিগনিন’ মহাকাশের অভিকর্ষহীন পরিবেশে কীভাবে নিজের রূপ বদল করে তা খতিয়ে দেখা।

সেখানকার প্রতিকূল পরিবেশেও নভোচারীরা অত্যন্ত যত্ন ও মমতায় আলফালফা গাছ বড় করে তুলেছেন। পরবর্তীতে গবেষণার প্রাথমিক ধাপ শেষে গাছগুলো কেটে বিশেষ প্রক্রিয়ায় বরফে জমিয়ে ‘ড্রাগন কার্গো’ নামের একটি মহাকাশযানের মাধ্যমে পৃথিবীতে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

ব্যক্তিগত অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে সোফি জানান, মহাকাশের এই একাকী জীবনে বাগানের কাজ করলে পৃথিবীর চেনা বাড়ির কথা মনে পড়ে। প্রতিদিন একটু একটু করে গাছের বেড়ে ওঠা দেখা এবং সেগুলোর পরিচর্যা করার অনুভূতি সত্যিই দারুণ। দীর্ঘমেয়াদি মহাকাশ অভিযানে নভোচারীদের পুষ্টির অভাব মেটাতে এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ভারসাম্য বজায় রাখতে এমন তাজা খাবার উৎপাদন করা অত্যন্ত জরুরি।

তার মতে, মহাকাশের এই কৃষিভিত্তিক গবেষণা কেবল বিজ্ঞানীদের জন্যই নয়, বরং পৃথিবীর মাটি, প্রথাগত চাষাবাদ এবং বনায়ন ব্যবস্থার উন্নয়নেও আগামী দিনে দারুণভাবে সাহায্য করবে। নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে এই নভোচারী পরিশেষে আশাবাদ ব্যক্ত করেন, বিজ্ঞানের এই জয়যাত্রা অব্যাহত থাকুক।