রবিবার, 4 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে বিস্তীর্ণ এলাকার ফসলি জমি বিলীন

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন আবারও ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে বিশাল এলাকার ফসলি জমি। নতুন করে ভাঙনের মুখে পড়েছে শত শত পরিবার, বসতভিটা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গ্রামীণ রাস্তাঘাট ও নানা স্থাপনা। তীব্র এই ভাঙনে নদী তীরবর্তী মানুষের মধ্যে এখন চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।

কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে বিস্তীর্ণ এলাকার ফসলি জমি বিলীন
ছবি : সংগৃহীত

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন আবারও ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে বিশাল এলাকার ফসলি জমি। নতুন করে ভাঙনের মুখে পড়েছে শত শত পরিবার, বসতভিটা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গ্রামীণ রাস্তাঘাট ও নানা স্থাপনা। তীব্র এই ভাঙনে নদী তীরবর্তী মানুষের মধ্যে এখন চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ দিনে প্রায় ১২০ হেক্টর আবাদি জমি নদী কেড়ে নিয়েছে। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমের আগে ও পরে ব্রহ্মপুত্রের এই ধ্বংসাত্মক রূপ দেখা দিলেও ভাঙন রোধে স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় বছরের পর বছর ধরে ঘরবাড়ি হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন স্থানীয়রা। ভুক্তভোগীদের দাবি, দ্রুত টেকসই নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন না করলে এই জনপদ মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে। নদের পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রৌমারীর চরশৌলমারী ইউনিয়নের চর গেন্দার আলগা, সোনাপুর, পশ্চিম খেদাইমারী, সুখেরবাতি, ঘুঘুমারী ও নামাজের চর এলাকায় ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। প্রবল স্রোত ও তীরধসের ফলে প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকা নদের পেটে চলে যাচ্ছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। বোরো ধান, ভুট্টা, পাট ও শাকসবজিসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষেত নদীগর্ভে চলে যাওয়ায় কৃষক পরিবারগুলো এখন নিঃস্ব হওয়ার পথে। এর আগে প্রায় ১০ মাস আগে একই ইউনিয়নে অন্তত ৭২০টি পরিবার তাদের সর্বস্ব হারিয়েছিল। সেই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অনেকেই এখনও রাস্তার পাশে বা অন্যের জমিতে ঝুপড়ি ঘরে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন। নতুন করে ভাঙন শুরু হওয়ায় অবশিষ্ট সম্বলটুকু হারানোর ভয়ে অনেকে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন।

চরশৌলমারী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সমসের আলী জানান, ক্ষতিগ্রস্ত ৭২০ পরিবারের তালিকা তৈরি করে চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এরই মাঝে নতুন করে ভাঙন শুরু হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এই বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

নদীভাঙনের শিকার সোনাপুর গ্রামের ৫৫ বছর বয়সী আকবর হোসেনের জীবনসংগ্রাম অত্যন্ত করুণ। তিনি জানান, এ পর্যন্ত সাতবার তার বসতভিটা বিলীন হয়েছে। বর্তমানে অন্যের বাঁশঝাড়ের নিচে আশ্রয় নিলেও নতুন ভাঙন সেই আশ্রয়টুকুও কেড়ে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। একই গ্রামের সেকেন্দার আলী ও মেহেরবানু বেগমের অবস্থাও অভিন্ন। বারবার ঘর হারিয়ে তারা এখন বাস্তুচ্যুত হয়ে পথে পথে ঘুরছেন। প্রবীণ সুরুজ মিয়া আক্ষেপ করে জানান, ১১ বার নদের ভাঙনে তার ঘরবাড়ি তছনছ হয়েছে। এখন অন্যের জমিতে মাথা গোঁজার ঠাঁই পেলেও সেটি কতদিন থাকবে তা নিয়ে তিনি শঙ্কিত।

স্থানীয় স্কুলশিক্ষক আতিয়ার রহমান বলেন, ভাঙন অব্যাহত থাকলে চর গেন্দার আলগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ স্থানীয় মসজিদ, বাজার ও যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। কুড়িগ্রামের নদীবিষয়ক সংগঠক মহিউদ্দিন মহির মনে করেন, জিওব্যাগ ফেলে সাময়িক প্রতিরোধের চেষ্টা না করে এখানে বড় পরিসরে স্থায়ী নদীশাসন প্রকল্প গ্রহণ করা জরুরি।

সার্বিক বিষয়ে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, ভাঙন পরিস্থিতির কথা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। তবে জরুরি কাজের জন্য বর্তমানে কোনো বরাদ্দ নেই। তিনি আরও জানান, স্থায়ীভাবে ভাঙন ঠেকাতে একটি প্রকল্পের প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে, যা বর্তমানে বিবেচনাধীন রয়েছে। বরাদ্দ পেলে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।