রবিবার, 4 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

ইউরোপে এস আলমসহ তিন অভিযুক্তের সম্পদ জব্দ, পাচারের টাকা দেশে ফিরবে কবে?

ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের দ্বীপরাষ্ট্র সাইপ্রাসের রাজধানী নিকোশিয়ার একটি আদালত সম্প্রতি সেখানকার একটি বিলাসবহুল বাসস্থান ক্রোক করার নির্দেশ দিয়েছে।

ইউরোপে এস আলমসহ তিন অভিযুক্তের সম্পদ জব্দ, পাচারের টাকা দেশে ফিরবে কবে?
ছবি : সংগৃহীত

ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের দ্বীপরাষ্ট্র সাইপ্রাসের রাজধানী নিকোশিয়ার একটি আদালত সম্প্রতি সেখানকার একটি বিলাসবহুল বাসস্থান ক্রোক করার নির্দেশ দিয়েছে। অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও আলিশান এই বাড়িটির মালিক বাংলাদেশের বিতর্কিত ব্যবসায়ী ও এস আলম গ্রুপের প্রধান সাইফুল আলম।

ব্যাংকিং খাতে নানা অনিয়ম ও জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে বিপুল অঙ্কের অর্থ অবৈধভাবে দেশের বাইরে পাঠানোর সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে এই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। সাইপ্রাসের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্যানুযায়ী, অর্থ পাচারের এই ঘটনার আন্তর্জাতিক তদন্তের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সরকারের আনুষ্ঠানিক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নিকোশিয়ার জেলা আদালত ওই সম্পত্তি জব্দের এই আদেশ জারি করে।

২০২৪ সালে প্রণীত বাংলাদেশের অর্থনৈতিক শ্বেতপত্রের তথ্য বলছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের টানা দেড় দশকের শাসনামলে বাংলাদেশ থেকে আনুমানিক ২৩৪ বিলিয়ন বা প্রায় ২৩ হাজার ৪০০ কোটি মার্কিন ডলার অবৈধ উপায়ে বিভিন্ন দেশে পাচার করা হয়েছে।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে সাবেক সরকারের পতনের পর, বিদেশে চলে যাওয়া এই বিশাল অঙ্কের অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত আনার লক্ষ্যে অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। বর্তমানে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা বাংলাদেশ ব্যাংক এই টাস্কফোর্সের মূল সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করছে।

বাংলাদেশ থেকে ঠিক কোন কোন রাষ্ট্রে কত পরিমাণ অর্থ অবৈধভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, তা উদঘাটনে দীর্ঘ দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে নিবিড় অনুসন্ধান চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা বিভাগ ‘বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট’ (বিএফআইইউ)।

দীর্ঘ তদন্ত ও তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা এ পর্যন্ত বিশ্বের অন্তত দেড় ডজন দেশ ও অঞ্চলের সুনির্দিষ্ট তালিকা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন, যেখানে বাংলাদেশের অর্থ পাচার করা হয়েছে।

এই তালিকায় থাকা দেশ ও স্বশাসিত অঞ্চলগুলোর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, সাইপ্রাস, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, চীনের হংকং, থাইল্যান্ড, ফিলিপিন্স, ভারত ও লুক্সেমবার্গ। এছাড়া কর ফাঁকি দেওয়ার স্বর্গরাজ্য হিসেবে পরিচিত ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস, আইল অব ম্যান, জার্সি, গার্নসি এবং ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের দ্বীপরাষ্ট্র সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিসের নামও এই তালিকায় উঠে এসেছে।

ইতিমধ্যেই এসব দেশ ও অঞ্চলের স্থানীয় সরকার এবং আর্থিক অপরাধ দমন সংক্রান্ত প্রশাসনের কাছে পাচারকারীদের যাবতীয় স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ও ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার জন্য বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে প্রাতিষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছে। বৈশ্বিক এই আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই ইউরোপের দেশগুলোতে অভিযুক্তদের সম্পদ ক্রোকের মতো বড় ধরনের সাফল্য আসতে শুরু করেছে, যা আগামী দিনে পাচারকৃত অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার পথকে আরও সুগম করবে বলে আশা করা হচ্ছে।