জনসাধারণকে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার প্রধান কেন্দ্র হাসপাতাল হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে চিকিৎসালয়টি নিজেই নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) যাওয়ার মতো অবস্থায় পৌঁছেছে বলে মন্তব্য করেছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা।
রবিবার জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ নোটিশের মাধ্যমে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে এই দূরবস্থার চিত্র তুলে ধরেন তিনি। আইনসভায় বক্তব্য রাখার সময় তিনি উল্লেখ করেন, শেরপুর জেলার প্রায় ১৭ লাখ বাসিন্দার একমাত্র নির্ভরযোগ্য চিকিৎসাস্থল সদর হাসপাতালের বাস্তব অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়।
সংসদ সদস্য চরাঞ্চলের অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, দুর্গম রাস্তাঘাট পেরিয়ে যখন কোনো মুমূর্ষু মানুষ কিংবা প্রসূতি মা শেষ সম্বল হিসেবে এই হাসপাতালে আসেন, তখন তাদের কপালে শয্যা জোটে না। দিনের পর দিন রোগীদের মেঝে, বারান্দা অথবা করিডোরে পড়ে থেকে যন্ত্রণায় ছটফট করতে হয়, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
হাসপাতালের প্রশাসনিক ও জনবল সংকটের তীব্রতা তুলে ধরে তিনি জানান, প্রতিষ্ঠানটিতে জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকদের জন্য নির্ধারিত ১০টি পদের সবকটিই বর্তমানে খালি রয়েছে। ফলে প্রতিদিন গড়ে সাতশত রোগীর চিকিৎসা দিতে গিয়ে কর্মরত চিকিৎসক, সেবিকা এবং অন্যান্য কর্মীরা চরম হিমশিম খাচ্ছেন। এছাড়া যানবাহন থাকলেও চালক না থাকা এবং বহুতল ভবনে পর্যাপ্ত লিফট সুবিধা না থাকার বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন।
করোনা মহামারীর সময়ে বিপুল ব্যয়ে নির্মিত নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র ও হৃদরোগ ইউনিটের বর্তমান অকার্যকর অবস্থার কথা জানিয়ে ডা. সানসিলা বলেন, লোকবল সংকটে এই বিভাগগুলো দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। তালাবদ্ধ থাকার সুযোগে সেখানে এখন অপরাধী ও মাদকাসক্তদের আনাগোনা বেড়েছে এবং হাসপাতালের মূল্যবান চিকিৎসা সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি চুরি হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া হাসপাতালের একাংশ দালাল ও ছিনতাইকারীদের দখলে চলে গেছে এবং আশপাশের বর্জ্যের দুর্গন্ধে পরিবেশ আরও বিষাক্ত হয়ে উঠছে।
হাসপাতালের জনবল নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের স্থবিরতা ও অনিয়মের অভিযোগ এনে এই চিকিৎসক ও সংসদ সদস্য বলেন, বিগত আট বছরে একাধিকবার নিয়োগের তারিখ নির্ধারণ করা হলেও অজ্ঞাত কোনো কারণে তা বারবার স্থগিত হয়ে গেছে। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নতুন কোনো কর্মী নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয়নি।