সোমবার, 5 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

হামলাকারীকে সাহায্য করার দায়ে তদন্তের মুখে চ্যাটজিপিটি

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা স্টেট ইউনিভার্সিটিতে গত বছর ঘটে যাওয়া একটি নৃশংস গোলাগুলির ঘটনায় এবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ‘চ্যাটজিপিটি’ এবং এর উদ্ভাবক প্রতিষ্ঠান ‘ওপেনএআই’-এর বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্ত শুরু করেছে ফ্লোরিডা রাজ্য সরকার। অভিযোগ উঠেছে, ওই হামলার আগে বন্দুকধারীকে সঠিক অস্ত্র নির্বাচন ও গুলি সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়ে প্রত্যক্ষভাবে সহায়তা করেছে এই এআই চ্যাটবট।

হামলাকারীকে সাহায্য করার দায়ে তদন্তের মুখে চ্যাটজিপিটি
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা স্টেট ইউনিভার্সিটিতে গত বছর ঘটে যাওয়া একটি নৃশংস গোলাগুলির ঘটনায় এবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ‘চ্যাটজিপিটি’ এবং এর উদ্ভাবক প্রতিষ্ঠান ‘ওপেনএআই’-এর বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্ত শুরু করেছে ফ্লোরিডা রাজ্য সরকার। অভিযোগ উঠেছে, ওই হামলার আগে বন্দুকধারীকে সঠিক অস্ত্র নির্বাচন ও গুলি সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়ে প্রত্যক্ষভাবে সহায়তা করেছে এই এআই চ্যাটবট।

বিগত বছরের এপ্রিল মাসে ফ্লোরিডা স্টেট ইউনিভার্সিটিতে এক বন্দুকধারীর অতর্কিত হামলায় দুইজন প্রাণ হারান এবং অন্তত ছয়জন গুরুতর আহত হন। পরবর্তী সময়ে পুলিশের গুলিতে আহত অবস্থায় অভিযুক্ত ব্যক্তি গ্রেপ্তার হন এবং বর্তমানে তার বিরুদ্ধে হত্যা ও হত্যাচেষ্টার মামলা চলমান রয়েছে। তদন্তে বেরিয়ে এসেছে যে, হামলার পরিকল্পনা সাজাতে ওই বন্দুকধারী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্য নিয়েছিলেন।

ফ্লোরিডার অ্যাটর্নি জেনারেল জেমস উথমায়ার এই তদন্তের বিষয়ে জানান, চ্যাটজিপিটি ওই শুটারকে কোন ধরণের আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা সুবিধাজনক, কোন অস্ত্রের সাথে কোন গুলি সবচেয়ে কার্যকর হবে এবং নির্দিষ্ট দূরত্বে সেই অস্ত্রের নিশানার নির্ভুলতা কেমন হতে পারে—এমন সব স্পর্শকাতর বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সরবরাহ করেছে। অ্যাটর্নি জেনারেলের মতে, স্ক্রিনের অপর প্রান্তে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বদলে কোনো রক্ত-মাংসের মানুষ থাকলে তার বিরুদ্ধে সরাসরি খুনের অভিযোগ আনা হতো।

তদন্ত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ফ্লোরিডার প্রসিকিউশন দপ্তর ওপেনএআই কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ তলব করেছে। চ্যাটজিপিটির দেওয়া তথ্য ওই অপরাধ সংগঠিত করতে ঠিক কতটা সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে এবং এর জন্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠানকে ফৌজদারিভাবে দায়ী করা যায় কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে ওপেনএআই এই ঘটনাকে অত্যন্ত ‘মর্মান্তিক’ বলে মন্তব্য করলেও আইনি দায় নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তারা ইতিমধ্যে অভিযুক্ত ব্যক্তির অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছে। তাদের মতে, চ্যাটবটটি কেবল ইন্টারনেটে বিদ্যমান সাধারণ ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য শেয়ার করেছে এবং কোনো অবস্থাতেই কাউকে অবৈধ কাজে প্ররোচিত করেনি।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই তদন্তের ফলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিরাপত্তা ও নৈতিকতা নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। ভুল তথ্য ছড়ানো বা কর্মসংস্থান হারানোর আশঙ্কার পাশাপাশি এখন সরাসরি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে এআই-এর ব্যবহার প্রযুক্তির উৎকর্ষতাকে বড় ধরণের আইনি ও সামাজিক চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়েছে।