সোমবার, 5 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

এআই’র কাছে একটি প্রশ্ন করলেই কতটা বিদ্যুৎ খরচ হয়? জানলে অবাক হবেন

প্রযুক্তি বিশ্বে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। একটি সাধারণ প্রম্পট বা নির্দেশের মাধ্যমেই ভ্রমণ পরিকল্পনা থেকে শুরু করে জটিল কোডিং কিংবা রান্নার রেসিপি—সবই এখন মিলছে নিমেষেই। তবে আপাতদৃষ্টিতে এই প্রক্রিয়াটিকে অত্যন্ত সহজ মনে হলেও এর নেপথ্যে রয়েছে বিদ্যুৎ শক্তির বিশাল এক কর্মযজ্ঞ। চ্যাটজিপিটির মতো আধুনিক টুলগুলোর উত্তর তৈরি করতে বিশ্বজুড়ে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যয় হচ্ছে, তা এখন পরিবেশবিদদের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এআই’র কাছে একটি প্রশ্ন করলেই কতটা বিদ্যুৎ খরচ হয়? জানলে অবাক হবেন
ছবিঃ সংগৃহীত

প্রযুক্তি বিশ্বে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। একটি সাধারণ প্রম্পট বা নির্দেশের মাধ্যমেই ভ্রমণ পরিকল্পনা থেকে শুরু করে জটিল কোডিং কিংবা রান্নার রেসিপি—সবই এখন মিলছে নিমেষেই। তবে আপাতদৃষ্টিতে এই প্রক্রিয়াটিকে অত্যন্ত সহজ মনে হলেও এর নেপথ্যে রয়েছে বিদ্যুৎ শক্তির বিশাল এক কর্মযজ্ঞ। চ্যাটজিপিটির মতো আধুনিক টুলগুলোর উত্তর তৈরি করতে বিশ্বজুড়ে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যয় হচ্ছে, তা এখন পরিবেশবিদদের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মূলত আমরা যখনই কোনো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করি, তখন সেই নির্দেশটি কার্যকর করতে বিশ্বের কোথাও না কোথাও অবস্থিত বিশাল ডেটা সেন্টারের প্রয়োজন পড়ে। এসব কেন্দ্রে চব্বিশ ঘণ্টা সচল থাকে হাজার হাজার শক্তিশালী কম্পিউটার এবং উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন গ্রাফিক্স প্রসেসিং ইউনিট বা জিপিইউ। এই জটিল হার্ডওয়্যারগুলো সচল রাখতে যেমন বিপুল বিদ্যুৎ প্রয়োজন, তেমনি এগুলোর প্রচণ্ড তাপ নিয়ন্ত্রণ করে শীতল রাখতেও ব্যয় করতে হয় প্রচুর শক্তি।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জনপ্রিয়তা যত বাড়ছে, বৈশ্বিক প্রযুক্তি বাজারে কম্পিউটিং পাওয়ারের চাহিদাও তত বৃদ্ধি পাচ্ছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে চিপ তৈরিকারী প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়ার অত্যাধুনিক ব্ল্যাকওয়েল চিপ ভাড়ার হার মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে প্রায় অর্ধেক বেড়ে গেছে। এমনকি অ্যানথ্রোপিকের মতো জনপ্রিয় চ্যাটবটগুলোও অতিরিক্ত চাপের কারণে অনেক সময় গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন সেবা প্রদানে ব্যর্থ হচ্ছে।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, একটি সাধারণ টেক্সট প্রম্পটের উত্তর তৈরি করতে আনুমানিক ০.৩ থেকে ০.৩৪ ওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ খরচ হয়। এককভাবে এই পরিমাণটি খুব সামান্য মনে হতে পারে, যা একটি এলইডি বাল্ব সামান্য সময় জ্বালানোর সমান। কিন্তু প্রতিদিন যখন কোটি কোটি মানুষ এই প্রযুক্তি ব্যবহার করেন, তখন এর সম্মিলিত বিদ্যুতের চাহিদা কল্পনাতীত পর্যায়ে গিয়ে ঠেকে।

বর্তমানে বিশ্বের মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের প্রায় ১.৫ শতাংশ ব্যয় হচ্ছে শুধু এই ডেটা সেন্টারগুলোর পেছনে। আশঙ্কার বিষয় হলো, ২০৩০ সাল নাগাদ এই চাহিদার হার দ্বিগুণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সাধারণ গৃহস্থালির সাথে তুলনা করলে দেখা যায়, একটি বড় এআই ডেটা সেন্টার সচল রাখতে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ লাগে, তা দিয়ে অন্তত এক লক্ষ বাড়ির বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লা বা গ্যাসের মতো জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহৃত হওয়ায় তা সরাসরি পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে।