রবিবার, 4 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

৭ হাজার কোটি টাকার এআই প্রযুক্তি কিনেছে নেটফ্লিক্স

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রযুক্তি সংস্থা 'ইন্টারপজিটিভ' নিজেদের মালিকানায় নিতে ৫৮ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার বা আনুমানিক ৭ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে নেটফ্লিক্স। জনপ্রিয় এই ভিডিও স্ট্রিমিং জায়ান্টের সাম্প্রতিক এক নিয়ন্ত্রক নথিতে কোটি ডলারের এই অধিগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

৭ হাজার কোটি টাকার এআই প্রযুক্তি কিনেছে নেটফ্লিক্স
ছবি : সংগৃহীত
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রযুক্তি সংস্থা 'ইন্টারপজিটিভ' নিজেদের মালিকানায় নিতে ৫৮ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার বা আনুমানিক ৭ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে নেটফ্লিক্স। জনপ্রিয় এই ভিডিও স্ট্রিমিং জায়ান্টের সাম্প্রতিক এক নিয়ন্ত্রক নথিতে কোটি ডলারের এই অধিগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

চলতি বছরের মার্চ মাসে ইন্টারপজিটিভ হস্তান্তরের ঘোষণা আসলেও তখন আর্থিক লেনদেনের অঙ্ক গোপন রাখা হয়েছিল। সে সময় বৈশ্বিক গণমাধ্যমগুলোতে চুক্তির মূল্য প্রায় ৬০ কোটি ডলার হতে পারে বলে গুঞ্জন উঠলেও সদ্য প্রকাশিত দাপ্তরিক বিবরণীতে প্রকৃত অর্থের পরিমাণ স্পষ্ট হলো।

হলিউডের খ্যাতনামা অভিনেতা ও পরিচালক বেন অ্যাফ্লেকের যৌথ উদ্যোগে গড়ে ওঠা এই প্রতিষ্ঠানটি মূলত চলচ্চিত্রের নির্মাণ-উত্তর সম্পাদনার কাজকে সহজ করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত প্রযুক্তি তৈরি করে। এই বিশেষ প্রযুক্তির সহায়তায় চলচ্ছবির বাদ পড়া অংশ পুনঃনির্মাণ, পটভূমি পরিবর্তন, আলোর হেরফের সংশোধন এবং কারিগরি রূপান্তরের মতো জটিল কাজগুলো অত্যন্ত নিখুঁত ও দ্রুততার সাথে সম্পাদন করা সম্ভব। বাণিজ্যিক হস্তান্তরের বিষয়ে বেন অ্যাফ্লেক জানান, মানুষের নিজস্ব চিন্তাশক্তিকে প্রতিস্থাপন করা তাদের লক্ষ্য নয়, বরং ডিজিটাল কারিগরদের নির্মাণক্ষমতাকে আরও গতিশীল ও সমৃদ্ধ করতেই এই প্রযুক্তির বিকাশ।

চুক্তি অনুযায়ী ইন্টারপজিটিভের পুরো কারিগরি দল এখন থেকে নেটফ্লিক্সের সাথেই যুক্ত হয়ে কাজ পরিচালনা করবে। এর পাশাপাশি বেন অ্যাফ্লেক নতুন সংস্থায় জ্যেষ্ঠ পরামর্শক হিসেবে যুক্ত থাকবেন, যদিও নতুন পদে তার সুনির্দিষ্ট কর্মপরিধি সম্পর্কে এখনো স্পষ্ট কিছু জানায়নি কতৃপক্ষ।

বর্তমানে দৃশ্যশ্রাব্য মাধ্যম ও গ্ল্যামার দুনিয়ায় কৃত্রিম মেধার ব্যবহার অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভিডিও সম্পাদনা, কাল্পনিক ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট ফুটিয়ে তোলা কিংবা শব্দ ও দৃশ্যের মানোন্নয়নে নির্মাতারা ব্যাপকভাবে প্রযুক্তিনির্ভর হচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট খাতের বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তি ব্যবহারে কনটেন্টের উৎকর্ষ বৃদ্ধির পাশাপাশি নির্মাণ ব্যয় অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে।

অবশ্য চলচ্চিত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বাড়বাড়ন্ত নিয়ে বিশ্বজুড়ে নানা সমালোচনা ও সংশয়ও তৈরি হচ্ছে। চলচ্চিত্র বোদ্ধা ও কলাকুশলীদের বড় একটি অংশ আশঙ্কা করছেন, এই ধরনের প্রযুক্তির উপর মাত্রাতিরিক্ত নির্ভরশীলতা মানুষের মৌলিক সৃজনশীলতাকে ম্লান করে দিতে পারে। যদিও উদ্ভাবক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভাষ্য, কৃত্রিম মেধা কখনোই মানুষের প্রতিস্থাপন নয়, বরং এটি শিল্পীদের কাজ সহজ করার একটি সহযোগী অনুঘটক মাত্র।

নেটফ্লিক্সের সদ্য প্রকাশিত আর্থিক হিসাব বলছে, তাদের প্রায় ৩০০টি চলচ্চিত্র এবং মৌলিক সিরিজে ইতোমধ্যে জেনারেটিভ এআই-এর ব্যবহার করা হয়েছে। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, ইন্টারপজিটিভকে নিজেদের অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে নেটফ্লিক্স নিজেদের প্রযুক্তিগত অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করতে চায়, যেন দ্রুততম সময়ে সাশ্রয়ী খরচে বৈচিত্র্যময় কনটেন্ট গ্রাহকদের উপহার দেওয়া সম্ভব হয়।