আজ সোমবার নগরীর প্রবর্তক মোড় সংলগ্ন এলাকায় বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান কর্মচারী ইউনিয়নের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিটির সমাপ্তিতে একটি বিশাল প্রতিবাদী মিছিল বের করা হয়।
সংগঠনটির সভাপতি আব্দুর রহিমের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানের পরিচালনায় আয়োজিত এই সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রম সংস্কার কমিশনের সাবেক সদস্য ও ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র (টিইউসি) চট্টগ্রাম জেলার প্রধান তপন দত্ত।
সম্মানিত অতিথি হিসেবে কর্মসূচিতে অংশ নেন টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা শাখার যুগ্ম সম্পাদক ইফতেখার কামাল খান। উক্ত সমাবেশে আরও আলোচনা পেশ করেন টিইউসি কেন্দ্রীয় কমিটির প্রতিনিধি ফজলুল কবির মিন্টু, সংগঠনের প্রাক্তন সভাপতি বিকাশ বসু, কমিউনিটি সেন্টার ও ডেকোরেটার্স কর্মচারী ইউনিয়নের প্রধান মো. পারভেজ, হোটেল ও রেস্তোরাঁ শ্রমিকদের প্রতিনিধি মো. হানিফ, ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়ন চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি আনিসুর রহমান, বেসরকারি কল্যাণ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বিপ্লব চক্রবর্তী, সুপর্ণা বড়ুয়া, মোকাদ্দেসা খানম, আকতার হোসেন ও মিঠুন বড়ুয়াসহ অনেকে।
আয়োজিত সমাবেশে বক্তারা বেসরকারি চিকিৎসা খাতে আশু মজুরি বোর্ড রূপায়ন করে সর্বনিম্ন পারিশ্রমিক ৩০ হাজার টাকায় উন্নীত করা, অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সহকারী নার্স ও কারিগরি কর্মীদের কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা দেওয়া, চুক্তিভিত্তিক ও আউটসোর্সিং ব্যবস্থা বিলোপ করা এবং দেশের প্রচলিত শ্রম সংক্রান্ত বিধিমালা অনুযায়ী কর্মীদের যাবতীয় অধিকার সুনিশ্চিত করার জোরালো আহ্বান জানান।
প্রধান বক্তা তপন দত্ত তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, বিগত সাড়ে চার দশকে দেশের বেসরকারি চিকিৎসা সেবা খাতের ব্যাপক প্রসার ঘটেছে। বর্তমানে সরকারি ব্যবস্থার পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক এবং রোগনির্ণয় কেন্দ্রগুলো সাধারণ মানুষকে ব্যাপক স্বাস্থ্যসেবা জোগাচ্ছ। এই অঙ্গনে দায়িত্ব পালনকারী কর্মীরা প্রতিনিয়ত শারীরিক ঝুঁকি নিয়ে জনসেবায় নিয়োজিত থাকলেও তাদের বড় একটি অংশ ন্যায্য পাওনা এবং আইনসম্মত সুবিধাদি লাভ করা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
সংগঠনের যুগ্ম সম্পাদক ইফতেখার কামাল খান বলেন, প্রচলিত আইনি কাঠামো অনুযায়ী চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মীদের আইনগত অধিকার ও সুবিধা প্রদান করা কর্তৃপক্ষের নৈতিক ও আইনি বাধ্যবাধকতা। কিন্তু সিংহভাগ প্রতিষ্ঠানেই চাকরি প্রদানের মূল পত্র, পরিচয়পত্র, সেবা রেকর্ড বই, বিভিন্ন ছুটি, বাড়তি সময়ের কাজের ভাতা, উৎসব ভাতা, ভবিষ্যৎ তহবিল সুবিধা এবং স্বাস্থ্য বীমাসহ অন্যান্য আইনি পাওনা ঠিকমতো প্রদান করা হচ্ছে না।